ঢাকা, রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮, ৪ ভাদ্র ১৪২৫
---
Tattho
প্রথম পাতা » পরিচিতি » অটোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা
বুধবার ● ১৬ মে ২০১৮, ৪ ভাদ্র ১৪২৫
Email this News Print Friendly Version

অটোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা

Ottoman নামটা এসেছে Osman থেকে। অটোমান মানে: যারা ওসমানকে অনুসরন করে। ওসমান ছিলেন এক তুর্কি বীরযোদ্ধা। জন্ম ১২৫৮ সালে আনাতোলিয়ায় (বর্তমান তুরস্ক) ইনিই তুরস্কের অটোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। প্রায় 622 বছর ধরে অটোমানরা তুরস্কসহ বিশাল এক সাম্রাজ্য শাসন করেছিল। আদিতে এরা ছিল সেলজুকদের বংশধর।
---
তো সেলজুক কারা? সেলজুকরা ছিল মধ্য এশিয়ার যাযাবর যোদ্ধা। এরা দুধর্ষ মঙ্গোলদের দ্বারা উৎখাত হয়ে পশ্চিমের আনাতোলিয়ায় সরে আসে। অস্টম ও নবম শতকে ইসলাম গ্রহন করে ও আনাতোলিয়ায় বিশাল এক সাম্রাজ্য গড়ে তোলে। সেলজুক তুর্কিদের সাম্রাজ্য পতন হলে আনাতোলিয়ায় ছোট ছোট স্বাধীন তুর্কি রাজ্য গড়ে উঠেছিল। সে সময় ওসমানের নেতৃত্বে ওটোমান তুর্করা একে একে সবকটা রাজ্যই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে। ১২৯৯ খ্রিস্টাব্দে ওসমান নিজেকে স্বাধীন ঘোষনা করেন। তবে তখনও তার অনুসারীদের বাইজানটাইন সাম্রাজ্যের মুখোমুখি হতে বাকী ছিল।
বাইজানটাইন সাম্রাজ্য পরিচিত ছিল পূর্বাঞ্চলের রোমান সাম্রাজ্যে হিসেবে। আসলে রোমান সাম্রাজ্যরই এক পূর্বমূখী সম্প্রসারণ ছিল বাইজানটাইন সাম্রাজ্য । রোমান সম্রাট কনসটানটাইন দ্য গ্রেট ৩২৬ খ্রিস্টাব্দে রাজধানী রোম থেকে সরিয়ে বাইজানটাইন নিয়ে আসেন। নতুন রাজধানীর নাম দেন কনসটানটিনোপল। ১৪৫৩ সালে অটোমানরা নগরটি দখল করে নেয়। নাম রাখে ইস্তানবুল। তারপর ইস্তানবুলই হয়ে ওঠে 622 বছর ধরে অটোমানদের রাজধানী ।
অটোমানদের রাষ্ট্র পরিচালনা নীতিতে তুর্কি, পারশিক, মঙ্গোল এবং ইসলামী ঐতিহ্যের সংমিশ্রন লক্ষ করা যায়। অটোমান সাম্রাজ্যের অন্যতম বৈশিষ্ট ছিল নিরুঙ্কুশ রাজতন্ত্র। শাসককে বলা হত সুলতান। সালতানাতের উত্তরাধীকারী হত কখনও বড় ছেলে কখনও ভাই। তবে 622 বছর ধরেই ক্ষমতার জন্য আতীব্র লড়াই লক্ষ্য করা গিয়েছে। সুলতান খলিফা উপাধি গ্রহন করতে পারতেন। মক্কা ও মদীনা ছিল অটোমান সাম্রাজ্যেরই অংশ। মুসলিমরা যাতে নির্বিঘ্নে হজ্জ করতে পারে তা নিশ্চিত করা ছিল সুলতানের অন্যতম দায়িত্ব। সুলতানের প্রধান লক্ষ ছিল সাম্রাজ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। বিশেষ করে নিম্নবর্গের প্রতি সুবিচার।

তুর্কি শব্দ “আদালেত: অর্থ ন্যায় বিচার। সমাজে আদালেত প্রতিষ্ঠাই ছিল সুলতানের অন্যতম উদ্দেশ্য। এটি একটি ইসলামী ধারনা। ইসলামে ন্যায় বিচারক বলতে হযরত সুলাইমানকে বোঝানো হয়ে থাকে। অটোমানরা বিশ্বাস করত: শাসকের হাতে চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকলেই তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব। শাসকের হাতে চূড়ান্ত ক্ষমতা না থাকলে; শাসক অন্যের উপর নির্ভর করতে বাধ্য হবেন- আর সে রকম হলেই প্রশাসনে দুর্নীতি অনিবার্য। অটোমান সাম্রাজ্যে আদালেত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সুলতানকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল নানা প্রতিষ্ঠন । সুলতানের একটি উপদেস্টা পরিষদ ছিল। সেই উপদেস্টা পরিষদের নাম ছিল দেওয়ান। দেওয়ান আমলাতন্ত্র নিয়ন্ত্রন করত । আমলারা নিয়ন্ত্রন করত স্থানীয় সরকারকে । আর, এসবি সুলতানের নাগালের মধ্যেই ছিল। সুলতানের প্রধান কাজ ছিল রাজকর্মচারীর ওপর নজরদারী করা। উলামারা বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। সুলতান তাদেরও পর্যবেক্ষন করতেন। মাঝে মাঝে স্থানীয় সরকারের হালচাল দেখতে সফরে বেরুতেন সুলতান। অবশ্য ছদ্মবেশে। যদি অন্যায় দেখতেন তো প্রত্যক্ষভাবে হস্তক্ষেপ করে অন্যায়ের প্রতিবিধান করতেন। সিয়াসেত ছিল দুনীর্তিবাজদের জন্য সুলতান কতৃর্ক আরোপিত কঠিন এক শাস্তি। অভিযুক্তদের দ্রুত দন্ডিত করা হত। ঘুষ কিংবা তদবীর করেও কোনও লাভ হত না। দীর্ঘ 622 বছরের বেশির ভাগ সময়ই গুপ্তচর নিয়োগ করে সুলতান সাম্রাজ্যের নানা প্রান্তের ওপর নজরদারী করতেন । গুপ্তচরেরা প্রতিবেদন জমা দিত কেন্দ্রে। কুড়ি শতক অবধি অটোমানদের গুপ্তচর বিভাগই নাকি ছিল বিশ্বের সেরা।

সুলতানের ফরমান জনগনের কাছে প্রচার করা হত; এ কারণে কর আদায়কারীরা নতুন করের নাম করে জনগনকে হয়রানি করতে পারত না। উপরোন্ত, সুলতানের দরবারে হাজির হয়ে সরাসরি আর্জি জানানো যেত। সুলতান জনগনের মতামত শুনতেন; অগ্রাহ্য করতেন না। দোষীদের জন্য ছিল সিয়াসেত।


কস্তুরী কি ও কোথায় পাওয়া যায়?

সৌদি আরবের ইফতার আইটেমে কী থাকে? এক নজরে দেখে নিন


এ বিভাগের আরো খবর...

বিজ্ঞ্যানে মুসলমানদের অবদান… বিজ্ঞ্যানে মুসলমানদের অবদান…
দুই মেয়ে ব্যারিস্টার, বাবা আর্মি অফিসার দুই মেয়ে ব্যারিস্টার, বাবা আর্মি অফিসার
অভিনব কায়দায় প্রতারণা করে বিনিয়োগারীদের ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিলো রহিম বাদশা অভিনব কায়দায় প্রতারণা করে বিনিয়োগারীদের ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিলো রহিম বাদশা
হাতিরঝিল হবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ৫০তম থানা হাতিরঝিল হবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ৫০তম থানা
অটোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা অটোমান সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা
কস্তুরী কি ও কোথায় পাওয়া যায়? কস্তুরী কি ও কোথায় পাওয়া যায়?
ঢাকায় সিটি বাস সার্ভিস ঢাকায় সিটি বাস সার্ভিস
ফার্মেসি থেকে স্কয়ার গ্রুপ – স্যামসন এইচ চৌধুরী! ফার্মেসি থেকে স্কয়ার গ্রুপ – স্যামসন এইচ চৌধুরী!
রাজধানী‌তে সি‌টিং সা‌র্ভিস বন্ধ ১৬ এ‌প্রিল থে‌কে রাজধানী‌তে সি‌টিং সা‌র্ভিস বন্ধ ১৬ এ‌প্রিল থে‌কে
ফরিদপুরের সালথা উপজেলা পরিষদের চেয়রম্যান বরখাস্ত ফরিদপুরের সালথা উপজেলা পরিষদের চেয়রম্যান বরখাস্ত

সর্বাধিক পঠিত

মিথ্যা মামলায় কাউকে অযথা হয়রানি করা যাবে না: প্রধান বিচারপতি মিথ্যা মামলায় কাউকে অযথা হয়রানি করা যাবে না: প্রধান বিচারপতি
মিটফোর্ডে আট কোটি টাকার ভেজাল ও নকল ওষুধ জব্দ মিটফোর্ডে আট কোটি টাকার ভেজাল ও নকল ওষুধ জব্দ
বিজ্ঞ্যানে মুসলমানদের অবদান… বিজ্ঞ্যানে মুসলমানদের অবদান…
দুই মেয়ে ব্যারিস্টার, বাবা আর্মি অফিসার দুই মেয়ে ব্যারিস্টার, বাবা আর্মি অফিসার
ভিখারির মেয়েকে ইউপি মেম্বারসহ ৫ জন মিলে ধর্ষণ ভিখারির মেয়েকে ইউপি মেম্বারসহ ৫ জন মিলে ধর্ষণ
অভিনব কায়দায় প্রতারণা করে বিনিয়োগারীদের ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিলো রহিম বাদশা অভিনব কায়দায় প্রতারণা করে বিনিয়োগারীদের ১১ কোটি টাকা হাতিয়ে নিলো রহিম বাদশা
হাতিরঝিল হবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ৫০তম থানা হাতিরঝিল হবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ৫০তম থানা
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার গত ২ বছরের ডায়াগনস্টিক টেস্টের সব রিপোর্ট ভুল দিয়েছে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার গত ২ বছরের ডায়াগনস্টিক টেস্টের সব রিপোর্ট ভুল দিয়েছে
চার ধরনের শারীরিক মিলন ইসলামে নিষিদ্ধ চার ধরনের শারীরিক মিলন ইসলামে নিষিদ্ধ
প্রায় তিন বছর পর দেশে ফিরছেন জাকির নায়েক! প্রায় তিন বছর পর দেশে ফিরছেন জাকির নায়েক!

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
বেকারদের জন্য অনুপ্রেরনা…ফরিদপুর এর লিখন
বিশ্বের শীর্ষ ১৩ ‘ডিসিশন মেকার্স’ ক্যাটাগরিতে শেখ হাসিনা
টমেটো ধূমপানের ক্ষতি কমাবে
৩৪ বার কাটছাঁটের শিকার ‘কেয়া কুল’
ব্রেকআপের পরে ‘জাস্ট ফ্রেন্ড’ হওয়া সম্ভব না
প্রেমে পড়লে শরীরে যে ছয়টি মজার পরিবর্তন ঘটে